Add 05

Tuesday, November 26, 2024

চট্টগ্রামে আদালতে সংঘর্ষ ও আইনজীবী নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৭


চট্টগ্রামে আদালতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও আইনজীবী নিহতের ঘটনায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতভর নগরীর কোতোয়ালী, পাথরঘাটা, বান্ডেল কলোনীসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে যৌথ বাহিনী।

আটককৃতদের বর্তমানে কোতোয়ালী থানা হাজতে রাখা হয়েছে। তাদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র রইছ উদ্দিন। উপ–পুলিশ কমিশনার রইছ উদ্দিন জানান, যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটককৃতদের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কার ভূমিকা কী ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখনও কোনো মামলা দায়ের হয়নি। 

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আইনজীবীদের সঙ্গে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। আদালত ভবনের মূল ফটকের সামনে রঙ্গম সিনেমা হল–সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে পুলিশের ১০ সদস্যসহ আহত হন অন্তত ৩৭ জন।

এর আগে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম আদালতে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন নামঞ্জুর করা হয়। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হলে বিক্ষোভ শুরু করেন তাঁর অনুসারীরা। একপর্যায়ে পুলিশ, বিজিবি লাঠিপেটা ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তখনই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বেলা তিনটার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পুলিশ ও আইনজীবীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের প্রতিবাদে আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা সাইফুলের ওপর হামলা চালায়। বিক্ষোভকারীদের অনেকের হাতে ছিল ধারালো অস্ত্র। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক সাইফুলকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহতের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ সকাল থেকে আদালত বর্জন কর্মসূচী পালন করছে আইনজীবীরা। সাইফুল ইসলাম আলিফ সহকারী সরকারি কৌঁসুলি (এপিপি) ছিলেন।


Monday, November 18, 2024

১, ২ ও ৫ টাকা কয়েন লেনদেনে নতুন নির্দেশনা


তফসিলি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় ১, ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা বা কয়েন সংরক্ষণের নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিছু ব্যাংকের শাখা নির্দিষ্ট পরিমাণ ধাতব মুদ্রা শুধু ভল্টে সংরক্ষণ করলেও জনসাধারণের চাহিদা মোতাবেক লেনদেন করছে না। ফলে চাহিদা থাকলেও ব্যাংক থেকে ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারছে না জনসাধারণ। এর ফলে কয়েন নিয়ে এমন নির্দেশনা দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব কারেন্সি ম্যানেজমেন্টের (ডিসিএম) এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেশ কিছু তফসিলি ব্যাংকের শাখা নির্দিষ্ট পরিমাণ ধাতব মুদ্রা শুধু ভল্টে সংরক্ষণ করলেও জনসাধারণের চাহিদা মোতাবেক লেনদেন করছে না। যার ফলে ধাতব মুদ্রার চাহিদা থাকলেও জনসাধারণ তফসিলি ব্যাংক থেকে ধাতব মুদ্রা সংগ্রহ করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে জনসাধারণের দৈনন্দিন স্বাভাবিক লেনদেনের স্বার্থে দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় ১, ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের ন্যূনতম নির্দিষ্ট সংখ্যক ধাতব মুদ্রা বা কয়েন সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হলো।

নির্দেশনা মতে, জনসাধারণের চাহিদা মোতাবেক ১, ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা লেনদেনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। লেনদেন স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ১, ২ ও ৫ টাকা মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা সংরক্ষণের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বেধে দেওয়া সংখ্যা মানতে হবে। ব্যাংকের স্থানীয় কার্যালয় ও ফিডিং শাখায় ১ টাকার কয়েন ২৪ হাজার পিস, ২ টাকার কয়েন ২৪ হাজার পিস ও ৫ টাকার কয়েন ন্যূনতম ১৫ হাজার পিস রাখতে হবে।

এছাড়া অন্যান্য প্রতিটি শাখায় ১ টাকার কয়েন ৮ হাজার পিস, ২ টাকার কয়েন ৮ হাজার পিস ও ৫ টাকার কয়েন ন্যূনতম ৫ হাজার পিস রাখতে হবে। প্রতিটি উপ-শাখায় ১ টাকার কয়েন ২ হাজার পিস, ২ টাকার কয়েন ২ হাজার পিস ও ৫ টাকার কয়েন ন্যূনতম ১ হাজার পিস রাখতে হবে। তবে লেনদেনের ফলে ধাতব মুদ্রার স্থিতি হ্রাস পেলে স্থিতি ন্যূনতম সংখ্যা থেকে হ্রাস পেলে জনসাধারণ, ফিডিং শাখা ও প্রয়োজনে কাছের বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সংগ্রহ করতে পারবে।


Sunday, November 17, 2024

রাসূল (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারতে নতুন নির্দেশনা


মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সমাধি পবিত্র রওজা শরিফ জিয়ারতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে সৌদি আরব। ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছে এখন থেকে মমহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা শরিফ জিয়ারতের জন্য আগাম অনুমতি নিতে হবে। সেই সঙ্গে বছরে একবারের বেশি রওজা শরিফ পরিদর্শন করা যাবে না।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) সউদী সরকারের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় এক্স পোস্টে এ তথ্য জানায়।

পোস্টে বলা হয়েছে, এখন থেকে অনুমতি ছাড়া রওজা শরিফে প্রবেশ করা যাবে না। অতিরিক্ত ভিড় কমাতে এবং অনিয়ম বন্ধ করতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বছরে একবারের বেশি রওজা শরিফ পরিদর্শন করা যাবে না। পাশাপাশি পরিদর্শনের জন্য অপেক্ষার সময় কমিয়ে এক ঘণ্টা করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, সউদী সরকারের হিসাবে চলতি বছর এক কোটির বেশি মুসলিম রওজা জিয়ারত করেছেন, যা গত বছরের চেয়ে ২৬ শতাংশ বেশি।

Saturday, November 16, 2024

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সমুদ্র যোগাযোগ চালুতে উদ্বিগ্ন ভারত


 ১৯৭১ সালের পর এই প্রথম পাকিস্তানি পণ্যবাহী জাহাজ সরাসরি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করায় গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে ভারত। গতকাল শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ অনলাইনে করা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সরাসরি সামুদ্রিক যোগাযোগে ভারতের সেভেন সিস্টার্স রাজ্যগুলোতে সম্ভাব্য অস্থিরতা তৈরির কাজে ব্যবহার করা হতে পারে। কারণ, ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স বাংলাদেশ সীমান্তের খুব কাছাকাছি।

ভারতের নিরাপত্তা বাহিনীর এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, গত পাঁচ দশকে বাংলাদেশের প্রধান দুই বন্দর চট্টগ্রাম ও মংলায় পাকিস্তান কোনো জায়গা পায়নি। সিঙ্গাপুর ও কলম্বোর মাধ্যমে দুদেশের বাণিজ্য হতো। তবে এখন পাকিস্তানি জাহাজ সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে আসবে। ফলে পাকিস্তান থেকে চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ অস্ত্র আসতে পারে। যেগুলো সশস্ত্র গোষ্ঠীর হাতে যেতেও পারে। যেমন ২০০৪ সালে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা এক হাজার ৫০০ চাইনিজ অস্ত্র ট্রলারে করে আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী দল উলফার জন্য পাঠিয়েছিল। তবে সেগুলোর উলফার হাতে যাওয়ার আগেই জব্দ করা হয়।

Friday, November 15, 2024

মা হত্যার ঘটনায় ছেলে জড়িত নয়, পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এলো আসল ঘটনা

 


বগুড়ার দুপচাঁচিয়া এলাকায় গৃহবধূ উম্মে সালমার হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নতুন মোড় নিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, খুনের জন্য নিহতের ছেলে নয়, বরং বাসার ভাড়াটিয়া মাবিয়া আক্তার দায়ী।

শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে দুপচাঁচিয়া থানার পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সময় বাসা থেকে খোয়া যাওয়া মোবাইল এবং ওয়াইফাই রাউটারের সূত্র ধরে মাবিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে মাবিয়া স্বীকার করেন যে, চার মাস আগে উম্মে সালমার বাসা ভাড়া নিয়ে মাদক ও অনৈতিক কাজ চালাচ্ছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে সালমা তাকে বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেন, আর এর পরই মাবিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে দুই সহযোগী মুসলিম ও সুমন চন্দ্র সরকারকে নিয়ে উম্মে সালমাকে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ফ্রিজে রেখে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

এর আগে রোববার (১০ নভেম্বর) দুপচাঁচিয়ায় ‘আজিজয়া মঞ্জিল’ বাড়িতে খুন হন উম্মে সালমা। প্রথমে নিহতের ছোট ছেলে সাদ বিন আজিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। র‌্যাব জানিয়েছিল, সাদ মায়ের খুন করেছে হাত খরচের টাকার জন্য এবং মরদেহ ডিপ ফ্রিজে রেখেছিল।

আগামী ৭ ডিসেম্বর সসমাবেশের ডাক দিয়েছে মাওলানা সাদপন্থিরা।


আগামী ৭ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাক দিয়েছে তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদপন্থিরা। আজ শুক্রবার (১৫ নভেম্বর) রাজধানীর কাকরাইল মসজিদে জুমার নামাজ আদায় শেষে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা।

আজ শুক্রবার সকাল থেকেই সাদপন্থিরা মসজিদ এলাকায় আসতে শুরু করে। আস্তে আস্তে তাদের জমায়েত বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে প্রধান সড়ক পার হয়ে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ছাড়িয়ে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত রাস্তায় দাঁড়িয়ে জুমার নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

জানা গেছে, তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব শুরুর পর থেকে বিগত সাত বছর ধরে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে কাকরাইল মসজিদে অবস্থানের ক্ষেত্রে জুবায়েরপন্থিরা চার সপ্তাহ ও সাদপন্থিরা দুই সপ্তাহ করে পর্যায়ক্রমে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। যদিও বিগত সরকারের এমন বৈষম্যপূর্ণ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করে আসছিল সাদপন্থিরা। এবার পুরো কাকরাইল মসজিদ সবসময়ের জন্য অবৈধভাবে দখল করে আজ শুক্রবার থেকেই অবস্থান করতে চান জুবায়েরপন্থিরা। গত বুধবার (১৩ নভেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাদ অনুসারীরা এসব কথা জানান।

সাদ অনুসারীরা আরও জানান,  কাকরাইল মসজিদের একটি অংশে এমনিতেই জুবায়েরপন্থিরা সারা বছর মাদ্রাসার নামে আলাদা অবস্থান নিয়ে থাকেন। কিন্তু জুবায়েরপন্থিরা সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে কাকরাইল মসজিদ স্থায়ীভাবে দখল নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় রক্তক্ষয়ী সংঘাতের আশঙ্কা করছেন তারা।

Tuesday, November 12, 2024

‘উই আর নাহিদ’ হ্যাশট্যাগে ছেয়ে গেছে ফেসবুক, কারণ কী?


 বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন নাহিদ ইসলাম। ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের পর শপথ নেয়া অন্তর্বর্তী সরকারের একজন উপদেষ্টা তিনি। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন নাহিদ। গত মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) দিবাগত রাত থেকে তাকে নিয়ে #WeAreNahid হ্যাশট্যাগে ছেয়ে গেছে সামাজিকমাধ্যম ফেসবুক।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক রিফাত রশিদ, মো. আবু বাকের মজুমদার, আবদুল কাদের, হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আব্দুল হান্নান মাসউদ, নাট্য নির্মাতা, জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিকেয়টসহ আনেকে এটি ব্যবহার করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।

জানা গেছে, নাহিদ ইসলামকে নিয়ে কে বা কারা অপপ্রচার চালাচ্ছেন। সেই অপপ্রচার রুখে দিতে তার পাশে দাঁড়াতেই সবাই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করছেন।

কন্টেন্ট ক্রিয়েটর কাফি লিখেছেন, 'ডিবি অফিসে পেছন সাইট লাল নাহিদ ভাইয়েরই হয়েছিল। ডিবি হারুনের বানানো স্ক্রিপ্ট প্যান্ট পরেও পড়তে পারেনি সে। লুঙ্গি পরে পেপার হাঁটুর ওপরে রেখে বানানো স্ক্রিপ্ট পড়েছিল নাহিদ ইসলাম।'

এক ফেসবুক পোস্টে আকরাম হোসাইন রাজ ‘উই আর নাহিদ’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে লিখেছেন, ‘সরাসরি সম্মুখে উচ্চস্বরে ‘সব শালারা বাটপার’ বলার স্বাধীনতা আনার জন্যই নাহিদরা বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আমাদের স্বাধীনতা, আমাদের নাহিদ ইসলাম ভাই।’

জনপ্রিয় নাট্য নির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহও ‘উই আর নাহিদ’ হ্যাশট্যাগে পোস্ট দিয়েছেন।

#WeAreNahid_Asif হ্যাশট্যাগ লিখে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসউদ লিখেছেন, ‘আজকে দেখছি নীতিহীন একটা মানুষ টকশোতে গিয়ে গলাবাজি করে গেলেন। উনি বা ওনাদের বিষয়ে আমি মাসুদ কথা বলা শুরু করলে ল্যাংটা হয়ে যাবেন। বিপ্লব কেমনে হয়েছে আমি আব্দুল হান্নান মাসউদ, আব্দুল কাদের, রিফাত রশিদ আর মাহিন সরকারের চেয়ে ভালো কেউ ব্যাখ্যা করতে পারবে না।’

তিনি আরও লিখেন, ‘নাহিদ ভাই, আসিফ ভাইকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করবেন? এই নাহিদ ভাই, আসিফ ভাইয়ের ১৬, ১৭ জুলাই থেকে শুরু করে ২৫ তারিখ আটক হওয়ার আগ পর্যন্ত ঐতিহাসিক ভূমিকাই পরবর্তীতে বিপ্লবে আমাদের পথনির্দেশনা দিয়েছে। আটকাবস্থা থেকে বেরিয়ে যে নেতৃত্ব ওনারা দিয়েছেন, তার ফলাফলস্বরূপ আজকে আপনাদের এসব গলাবাজি। আমরা কথা বলা শুরু করলে তখন মুখ চেপে ধরতে আইসেন না৷ পরিষদের ইতিহাসও জানানো হবে।’

আন্দোলনের সময় নির্যাতনের স্বীকার হওয়া নাহিদের ছবি পোস্ট করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লা লিখেছেন, ‘গত ১৬ বছরে বাংলাদেশের অবস্থা এমনই ছিল। যারা হাসিনার পুনর্বাসন প্রকল্পকে সমর্থন করে তারা দেশকে সেই একই পরিস্থিতিতে ফিরিয়ে আনবে, যেমন- রক্তপাত, জোরপূর্বক গুম, হত্যা এবং আরও অনেক কিছু। হাসিনা শাসনের পুনর্বাসনকে সমর্থন করলে শেষ পর্যন্ত একই বিধ্বংসী পরিণতি ঘটবে। ফ্যাসিস্ট বিরোধী বাংলাদেশ নাহিদ। আমরা নাহিদ। জুলাই ৩৬, ২০২৪।’

সম্প্রতি ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির (এনআইবি) মহাপরিচালক পদের নিয়োগপত্রে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সুপারিশসহ সই করা ছবি ভাইরাল হয়েছে। এ বিষয়ে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিষয়টি অসত্য এবং আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, ১৫ অক্টোবরের নিয়োগ ২২ অক্টোবরই বাতিল করা হয়েছিল। সুপারিশকৃত গোপন নথির ছবি যারা পেয়ে যায় তাদের কাছে বাতিলকৃত প্রকাশ্য নোটিশটি অজানা থাকার কথা না। তারপরও যেকোনো মূল্যে অসত্য প্রচার করে বিতর্কিত করাটা এই সময়ের রাজনীতি।

তিনি আরও লিখেছেন, মূলত আওয়ামী বিরোধী ও আন্দোলনের পক্ষের একটি গ্রুপ এই ব্যক্তির সুপারিশ করেছিল। পরবর্তীতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা উনার একাডেমিক এক্সেলেন্সি দেখে এনআইবি পদে নিয়োগ দেন। কিন্তু ঐ ব্যক্তির রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড জানার পরে সঙ্গে সঙ্গেই উনার নিয়োগ বাতিল করা হয়। গত মাসের ঘটনা। বাতিল করার ঘোষণাটিও সকলে অবগত আছেন।

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) চলমান হল আন্দোলনকে কেন্দ্র করে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এতে নাহিদ ইসলামকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘সব শালারা বাটপার, আর্মি হবে ঠিকাদার’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে সচিবালয়ের সামনে ছিলেন উপদেষ্টা নাহিদ।

শিক্ষার্থীরা জানান, এই স্লোগান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই দিয়ে আসছিলেন। মূলত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে উদ্দেশ্য করে এই স্লোগান দেয়া হয়েছে। নাহিদ ইসলামকে উদ্দেশ্য করে নয়। তারা জানান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চান তাদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন হোক। এ জন্যই ‘আর্মি হবে ঠিকাদার’ বলা হয়েছে।


Monday, November 11, 2024

নতুন করে রোহিঙ্গা ঢল নামার আশঙ্কা


মিয়ানমারের রাখাইনে দুর্ভিক্ষের আভাস দিয়েছে জাতিসংঘ। এতে বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গা ঢল নামার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এর প্রভাব পড়তে পারে পুরো অঞ্চলে। এতে নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। এ পরিস্থিতিতে ঢাকাকে সর্তক হতে বলছেন বিশ্লেষকেরা। এ জন্য জাতিসংঘসহ আঞ্চলিক জোটের ওপর চাপ বাড়াতে তাগিদ দেওয়া কথা বলছেন তাঁরা।

জাতিসংঘ শঙ্কা জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইনে চরম দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে। ইউএনডিপির প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাখাইনে বীজ ও সার সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি না বদলালে মার্চ-এপ্রিল নাগাদ, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন ৮০ শতাংশ কম হতে পারে। এতে ২০ লাখের বেশি মানুষ অনাহারে ভুগতে পারে।

এমন অবস্থায় নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা দেখছে ঢাকা। এরই মধ্যে নেপিদোকে উদ্বেগও জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এখন আর মানবিক হওয়ার সুযোগ নেই।  

রোহিঙ্গা ঢল নামার আশঙ্কা করে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘যদি নতুন করে একটা ইনফ্লাক্স (মানুষের ঢল) হয়, সে ক্ষেত্রে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা যে পক্ষেরই থেকে থাকুক না কেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেটি মোকাবিলার জন্য কিন্তু আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও আরেকটি নতুন সংকট তৈরি হতে পারে। আঞ্চলিকভাবেও সেটার একটা সম্ভাবনা থাকতে পারে।’  

আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘কোনো দেশে যদি ফ্যামিন (দুর্ভিক্ষ) হয়ে থাকে তাহলে, সেটি সেই দেশের রীতিমতো দায়িত্ব। সেই হিসেবে যারা মিয়ানমার সরকারের সাথে সম্পর্ক রাখেন, ব্যবসা বাণিজ্য করেন, তাদের এটা বড় দায়িত্ব বলে আমি মনে করি।’

বিপর্যয় মোকাবিলায় ঢাকাকে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। বলছেন, মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। 

আন্তর্জাতিক সর্ম্পক বিশ্লেষক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘বড় একটা সুযোগও কিন্তু তৈরি হয় মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মি, যারা মূলত আরাকানের শতকরা ৭০ ভাগের মতো ক্ষমতা তাদেরই হাতে বলা হয়, তাদের সাথেও নেগোসিয়েশনে বসা।’

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, ‘কূটনৈতিক আলাপ আলোচনা অথ্যাৎ বহুমূখী আলোচনা যেমন জাতিসংঘে একটা, নিউইয়র্ক জেনেভায় একটা। রোহিঙ্গা বিষয়ে দুটো দিক থেকে আসিয়ানকে উদ্বুদ্ধ করা যায়।’

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের সুনির্দিষ্ট উপায় বের করতে যোগ্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বিশ্লেষকেরা।


জনগণকে মুখ্য রেখে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের


 জনগণকে মুখ্য রেখে কর্মকর্তাদের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করার আহ্বান জানান উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

গতকাল সোমবার (১১ নভেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। দায়িত্বভার গ্রহন শেষে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সময় উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রণালয়ের (সচিবের রুটিন দায়িত্বে) অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. নজরুল ইসলাম।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণকারী উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে সদ্য বিদায়ী উপদেষ্টা এ হাসান আরিফ বলেন, এটা কোন রুটিন সরকার নয়, বিপ্লবী সরকার। আমাদের মূল দাবি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া।

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সবাই অংশগ্রহণ করেছিল, তেমনি ২০২৪ সালের আন্দোলন শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক ছিল না। এর ধাক্কা লেগেছে সমস্ত দেশে। এ সময় মন্ত্রণালয়ের সবার ভূয়সী প্রশংসা করেন হাসান। সবাই কাজের ব্যাপারে বেশ দক্ষ ও আন্তরিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং দক্ষতার সাথে কাজ করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ । সিনিয়রদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জনকল্যাণমূলক কাজ করতে হবে যা ভবিষ্যতে উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। এই মন্ত্রণালয়ের কাজে জনসম্পৃক্ততা বেশি, জনকল্যাণে সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস জনগণ। জনকল্যাণে কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে যেতে চাই।

উল্লেখ্য, অন্তর্র্বতীকালীন সরকারে নতুন উপদেষ্টার শপথ গ্রহণ ও উপদেষ্টাদের মাঝে দপ্তর পুর্নবণ্টন করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার,পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় দায়িত্বে ছিলেন।


বঙ্গভবন থেকে মুজিবের ছবি সরালেন মাহফুজ


ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়েছেন শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার। এরপর দেশের দায়িত্ব নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সরকার পতনের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও বঙ্গভবন থেকে সরানো হয়নি শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে অনেক দিন আগে থেকেই।

এবার শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ছবি সরিয়ে ফেলেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদ্য নিয়োগ পাওয়া উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।

গতকাল তিনিসহ তিনজন নতুন উপদেষ্টা শপথ নিয়েছেন। এর আগে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে শপথগ্রহণের পর দিনই শেখ মুজিবের ছবি বঙ্গভবন থেকে সরিয়ে ফেলেছেন তিনি। কেন এই ছবি সরিয়েছেন, তার ব্যাখ্যাও তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে তুলে ধরেছেন।

মাহফুজ তার পোস্টে লিখেছেন, ‘দরবার হল থেকে শেখ মুজিবুর রহমান-পোস্ট ‘৭১’ ফ্যাসিস্টের ছবি সরানো হয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার যে আমরা ৫ আগস্টের পর বঙ্গভবন থেকে তার ছবি সরাতে পারিনি। যার জন্য ক্ষমা-প্রার্থী। কিন্তু, মানুষের মধ্যে জুলাইয়ের চেতনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তাকে কোথাও দেখা যাবে না।’

এই উপদেষ্টা বলেন, ‘শেখ মুজিব এবং তার কন্যা বাংলাদেশের জনগণের সাথে যা করেছেন তা আওয়ামী লীগকে অবশ্যই স্বীকার করতে হবে এবং ক্ষমা চাইতে হবে। অগণতান্ত্রিক ‘৭২’-এর সংবিধান থেকে শুরু করে দুর্ভিক্ষ, কোটি টাকা পাচার এবং হাজার হাজার ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধীদের বিচার-বহির্ভূত হত্যা (৭২-৭৫, ২০০৯-২০২৪)। তাহলে, আমরা ‘৭১-এর আগের শেখ মুজিবের কথা বলতে পারি। ক্ষমা ও ফ্যাসিস্টদের বিচার ছাড়া কোনো ধরনের সংলাপ হবে না।’

Saturday, November 9, 2024

ড. ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ

 ড. ইউনূস, আসিফ নজরুল, নাহিদ ইসলাম ও সারজিস আলম। ছবি

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ৬২ জনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

শুক্রবার (৮ নভেম্বর) নেদারল্যান্ডের হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক আদালতে এই অভিযোগ করা হয়।

লন্ডনে অবস্থানরত সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী এ অভিযোগ দায়ের করেন। গত ৫-৮ আগস্ট পর্যন্ত ‘বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের নামে’ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী, বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দু, খৃষ্টান, বৌদ্ধ এবং বাংলাদেশ পুলিশের ওপর ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংগঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ আনা হয়।
ড. ইউনূস ছাড়াও ৬২ অভিযুক্তের মধ্যে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, পাট ও বস্ত্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নাম রয়েছে।

এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, আব্দুল হান্নান, হাসিব আল ইসলাম ও আবু বকর মজুমদারকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই অভিযোগে প্রায় ৮০০ পৃষ্ঠার তথ্য ও নথিপত্র প্রমাণস্বরূপ যুক্ত করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে আনোয়ারুজ্জাম চৌধুরী বলেন, আমার মনে হয় আমিই প্রথম (অভিযোগ) শুরু করলাম। প্রায় ১৫ হাজার ভিক্টিম আছেন যারা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ করবেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে সরকার পতনের পর লাপাত্তা হন সিলেটের তৎকালীন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। পরে জানা যায় তিনি লন্ডনে পালিয়ে গেছেন।

Friday, November 8, 2024

ভারতে এবার নারীকে ধর্ষণের পর জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা


 ভারতের মণিপুর রাজ্যে জিরিবাম জেলায় ধর্ষণের পর জীবন্ত পোড়ানো হলো ৩ সন্তানের জননীকে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে একদল সশস্ত্র মেইতেই গোষ্ঠীর সদস্য ৩১ বছর বয়সী হামার জনগোষ্ঠীর ওই স্কুল শিক্ষিকাকে ধর্ষণ করে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।

তাছাড়া ওই গ্রামের ২০টি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় তারা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া

পুলিশের কাছে ওই নারীর স্বামীর দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তার স্ত্রীকে ‘সশস্ত্র মেইতেই সন্ত্রাসীরা’ ধর্ষণ করে ও পরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যা করে।

পুলিশের এক কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহত নারীর লাশ পরিবারের কাছে রয়েছে, ময়নাতদন্তের জন্য ওই নারীর মরদেহ আসামের শিলচরে পাঠানোর চেষ্টা করছি। পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত। পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি, কীভাবে ওই নারী পুড়েছেন এবং কতগুলি বাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ২০ বাড়ি পুড়ে গেছে বলে আমরা খবর পেয়েছি।

গত ১৯ অক্টোবর কুকি-জো-হামার গোষ্ঠীর সদস্যদের সঙ্গে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর বন্দুক-যুদ্ধ হয়। এর আগে, এরপর থেকে পরিস্থিতি তুলনামূলক শান্ত ছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, জিরিবাম জেলার পুলিশ সুপারের উদ্যোগে স্থানীয় মেইতেই ও হামার জনগোষ্ঠীর মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু করার ঠিক আগে এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল। এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিআরপিএফ, আসাম রাইফেলস এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মণিপুরে বছরের বেশি সময় ধরে মেইতেই ও অন্যান্য জনজাতির মধ্যকার সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩৮ জনে। এ ছাড়া বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৬০ হাজারে বেশি মানুষ।

Thursday, November 7, 2024

চট্টগ্রামে দাঙ্গা সৃষ্টির অপচেষ্টা! নেপথ্যে নওফেল


চট্টগ্রামে দাঙ্গা লাগানোর অপচেষ্টা হয়েছে বেশ কয়েকবার। হিন্দু অথবা বৌদ্ধদের মন্দির এবং উপাসনালয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দাঙ্গা লাগানোর এ অপচেষ্টা করা হয়। এর নেপথ্যে রয়েছে পতিত স্বৈরাচারি শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়া সাবেক শিক্ষামন্ত্রী স্বঘোষিত ইসকন সদস্য মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তার নির্দেশে চট্টগ্রামের কিছু ছাত্রলীগ নেতা দাঙ্গা বাজানোর ওই চক্রান্ত করে। তবে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত যৌথ বাহিনীর সময়োচিত পদক্ষেপে ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাষ্ট্রদ্রোহী ওই চক্রান্ত আপাতত ব্যর্থ হয়েছে। চট্টগ্রামে হিন্দুদের মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বৌদ্ধমন্দির ভেঙে তার দায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা কর্মীদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার এক গভীর নীলনকশার যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত এখন গোয়েন্দাদের হাতে।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এ নীলনকশা বাস্তবায়নে অজ্ঞাত স্থান থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন নওফেল। ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা এ অপকর্ম বাস্তবায়নে নিজেদের মধ্যে আলোচনা এবং দফায় দফায় বৈঠক করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাদের সে অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। চট্টগ্রাম থেকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধিয়ে তার দায় ছাত্রজনতার উপর চাপিয়ে দিয়ে একদিকে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা অন্যদিকে ফ্যাসিবাদী পতিত স্বৈরাচারি হাসিনার প্রতি সাধারণ মানুষের সহানুভূতি আদায়ের নীলনকশা প্রণয়ন করে তারা। এ সংক্রান্ত ছাত্রলীগ নেতা ও নওফেলের সহযোগীদের মধ্যে ম্যাসেঞ্জারে কথোপকথনের কিছু তথ্য ইনকিলাবের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের এক নেতা মো. আসিফুর রহমান মিনহাজ নওফেলের এক সহযোগীর সাথে দাঙ্গা সৃষ্টির পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনা করছেন।

মিনহাজ লিখেন, ‘হিন্দুদের কিছু দোকান আছে ওইগুলো ভাঙারি বানিয়ে ফেলব। ইনশাআল্লাহ দাঙ্গা লেগে গেলে হিন্দু বৌদ্ধরা আর ছাত্রদের পক্ষে থাকবে না। উনারাই মিলে আবার আমাদের সরকারকে পা ধরে মাফ চেয়ে দেশে আনবে। আবার নওফেল ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে মহসিন কলেজ জেগে উঠবে।’

জবাবে নওফেলের সহযোগী লিখেন, মহসিন কলেজের বীর তুমি। ইনশাআল্লাহ তোমাকে তোমার ক্লাসের সভাপতি দিয়ে দেব। সব সেকশন তোমার হাতে থাকবে। পারলে মূর্তির মাথাগুলো ভেঙে দিবা হিন্দু বৌদ্ধ যে কোন মন্দির পাও। মাথায় রাখবা এ দেশ বাঁচানোর দায়িত্ব তোমাদের হাতে।

জবাবে মিনহাজ লিখেন, পাশে থাকবেন ভাই। মন্দিরে হামলা এবং হিন্দুদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার জন্য ছাত্রলীগ কর্মীদের গণি বেকারী, জামালখান ও চেরাগি পাহাড় এলাকায় জড়ো হতে বলা হয়। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশ ধরে প্রয়োজনে কারও মাথায় টুপি রাখতেও বলা হয়। এ অবস্থায় মন্দিরে হামলা করলে পুরো দোষ পড়বে ছাত্রদের উপর। আর তাতে দাঙ্গা শুরু হবে এবং সাধারণ মানুষ ছাত্রদের বিরুদ্ধে চলে যাবে। মিনহাজ লিখেন, ভাই আমাদের পাশে থাকবেন। কিছু হিন্দুদের দোকান আছে ওইগুলো ভাঙারি বানিয়ে ফেলব।

জবাবে নওফেলের সহযোগী বলেন, ‘সাব্বাস! আচ্ছা তোমাদের কাজ ফিনিশ করে আমাকে জানিও। আর স্টুডেন্ট সরে গেলে দ্যান তোমরা হামলা দিবা। মামুনকে টুপি দিছি। সবাই সাদা টুপি মাস্টবি পড়বা। যাও ভাইয়া, আমাকে আপাতত কল দিওনা। ফোন অফ করতেছি। প্রবলেম হবে আমার। তোমাদের রিক্স লাগলে টুপি ফেলে দিয়ে দৌঁড়াইও। রাতে মিটিংয়ে দেখা হবে ভাইয়া।’

দাঙ্গা বাজানোর এসব অপকর্ম করলে ভবিষ্যতে পুরস্কার দেওয়ারও আশ^াস দেন নওফেলের ওই সহযোগী। তিনি লিখেন, ‘তাড়াতাড়ি কাজে নামো ভাইয়া। আমাদের সরকারের এখন তোমাদের হাতের উপর ভরসা। ইনশাআল্লাহ সরকার আসলে তোমার ফুল ক্যারিয়ারের দায়িত্ব আমি নওফেল ভাইকে বলে ছেট করে দিব। জাস্ট সংগ্রাম করে যাও ভাইয়া।’

জানা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এসব তথ্য হাতে পাওয়ার পর ষড়যন্ত্রকারী নওফেলের সহযোগীদের ধরতে মাঠে নেমেছে।

উল্লেখ্য, ছাত্রজনতার বিপ্লবের মুখে বিগত ৫ আগস্ট মাফিয়া সরকারের প্রধান শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর চট্টগ্রামে সংখ্যালঘুদের বাসাবাড়ি, মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার চক্রান্ত শুরু হয়। এর মধ্যদিয়ে সরকারকে অস্থিতিশীল করা এবং দেশে দাঙ্গা তথা নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা করে পতিত স্বৈরাচারের দোসরেরা। তবে বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোর তাৎক্ষণিক কর্মসূচি বিশেষ করে হিন্দুদের মন্দির ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দলীয় কর্মীদের দিয়ে পাহারা বসানোর ফলে এ অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর দুর্গাপূজা এবং বৌদ্ধদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়েও নাশকতার অপচেষ্টা হয়। সেটিও ব্যর্থ হয় পুলিশ এবং রাজনৈতিক দলগুলোর নানা তৎপরতার কারণে। এরপর ইসকনসহ বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে একের পর এক বিভিন্ন কর্মসূচির নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা করা হয়। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার রাতে নগরীর হাজারী গলিতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দাঙ্গা বাধানোর অপচেষ্টা হয। সেখানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের উপর এসিড হামলার ঘটনাও ঘটে। তবে যৌথবাহিনীর শক্ত অবস্থান এবং সাঁড়াশি অভিযানের ফলে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টির ওই অপচেষ্টাও ভেস্তে যায়। একের পর এক নাশকতা এবং নৈরাজ্য সৃষ্টি এসব চক্রান্তের পেছনে ভূমিকা রাখছে পতিত স্বৈরাচারের দোসরেরা। গোয়েন্দা সংস্থার কাছে যে তথ্য তাতে স্পষ্ট অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে থাকা নওফেলসহ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কতিপয় নেতা এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে। তবে নওফেল পালিয়ে থাকায় এসব বিষয়ে তার কোন বক্তব্য জানতে পারেনি দৈনিক ইনকিলাব।



সালমানের পর এবার শাহরুখকে হত্যার হুমকি


 বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খানকে খুনের হুমকি দিয়ে মুম্বাই পুলিশের ল্যান্ডলাইন নম্বরে এল উড়ো ফোন! স্বভাবতই চাঞ্চল্য চারদিকে। সালমান খানের পর এবার মৃত্যুর হুমকি পেলেন কিং খান। ইতিমধ্যে সেই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে তদন্তে মুম্বাইয়ের বান্দ্রা পুলিশ। সাইবার সেলও তদন্ত চালাচ্ছে। জানা গেছে এই ফোনে, শাহরুখের থেকে ৫০ লাখ রুপির দাবিও করা হয়েছে। 

জানা যায়, ৩০৮(৪) এবং ৩৫১(৩)(৪) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাম্প্রতি শাহরুখের বন্ধু তথা সহকর্মী অভিনেতা সালমান খানকে বারবার খুনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। গত এপ্রিলে সালমানের বাড়ির সামনে গুলি চালানোর ঘটনার পর থেকেই ভাইজানের সিকিউরিটি আঁটসাঁট করেছে মুম্বাই পুলিশ। তার মাঝেই গত মাসে সালমান-শাহরুখ ঘনিষ্ঠ রাজনীতিক বাবা সিদ্দিকিকে গুলি করে খুন করা হয়। সেই খুনের দায়ও গ্রহণ করে বিষ্ণোই গ্যাংয়ের সদস্যরা।

গত সোমবার, মুম্বাই পুলিশের ট্রাফিক কন্ট্রোল ইউনিট নিজেকে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই বলে দাবি করা এক ব্যক্তি একটি বার্তা পাঠিয়েছে, সেই হুমকি বর্তায় স্পষ্ট বলা হয়, নির্দিষ্ট দাবি না মানলে সালমান খানকে হত্যা করা হবে।

এই ঘটনায় রাজস্থানের ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে বুধবার কর্ণাটক থেকে গ্রেপ্তার করে এবং মহারাষ্ট্র পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ভিখা রাম, যিনি বিক্রম নামেও পরিচিত, তিনি রাজস্থানের জালোরের বাসিন্দা। জানা গেছে, সে পেশায় একজন দিনমজুর এবং নিজেকে গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভক্ত বলে দাবি করেন।

অন্যদিকে, শাহরুখকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ওই ফোন এসেছিল রায়পুর, ছত্তিশগঢ় থেকে। ইতিমধ্যেই রায়পুরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে মুম্বাই পুলিশের একটি টিম। শাহরুখকে এই প্রথম খুনের হুমকি দেওয়া হল তা নয়, ‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’র সাফল্যের পর থেকে মৃত্যুর হুমকি পাচ্ছেন শাহরুখ। এর জেরেই ওয়াই প্লাস সিকিউরিটিতে হামেশা মোড়া থাকছেন বাদশা।

Wednesday, November 6, 2024

আমি সব যুদ্ধ বন্ধ করে দেব: ট্রাম্প

 


বিশ্বে চলমান সব যুদ্ধ বন্ধ করে দেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ বুধবার নির্বাচনে জয় দাবি করে এই মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় ট্রাম্প বলেন, আর কোনো যুদ্ধ হতে দেব না।

সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইনডিপেনডেন্ট বলছে, বুধবার ফ্লোরিডার ওয়েন্ট পাম বিচে উচ্ছ্বসিত জনতার সামনে এ কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় ট্রাম্প বলেন, `আমাদের কোনো যুদ্ধ ছিল না। আইএসআইএসকে পরাজিত করা ছাড়া চার বছর ধরে আমাদের কোনো যুদ্ধ হয়নি। তারা (ডেমোক্র্যাট) বলেছিল ‘সে একটি যুদ্ধ শুরু করবে’। আমি যুদ্ধ শুরু করতে যাচ্ছি না, আমি যুদ্ধ বন্ধ করতে যাচ্ছি।’

এর আগে নির্বাচনী বিতর্কে ট্রাম্প ইউক্রেন ইস্যুতে বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি এই যুদ্ধটি শেষ করা এবং এটি সম্পন্ন করা, একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা করা আমেরিকার সর্বোত্তম স্বার্থ।’

মার্কিন নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে ছিল রাশিয়া ও ইউক্রেন। যুদ্ধরত এই দেশ দুটো পর্যবেক্ষণ করেছে মূলত ট্রাম্প জেতেন কিনা সেটি দেখার জন্য। তিনি জিতে যাচ্ছেন, হয়তো ইউক্রেনে সহায়তা কমে যেতে পারে। তার প্রভাব পড়বে যুদ্ধে। বিশ্লেষকেরা এমনটাই বলছেন। 

এমনকি ট্রাম্পও বলেছেন, তিনি চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে পারবেন। ধারণা করা হচ্ছে, ক্ষমতায় গেলে তিনি সহায়তা বন্ধ করে দিয়ে ইউক্রেনকে রাশিয়ার সঙ্গে সমঝোতা করতে বাধ্য করতে পারেন। এতে করে ইউক্রেনের বেশকিছু এলাকা পেয়ে যাবে রাশিয়া। 

এ ব্যাপারে ইউরেশিয়া গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আইয়ান ব্রেমার সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে বলছেন, ‘মার্কিন নির্বাচন ইউক্রেনীয়দের হাত জোর করে বেঁধে দিতে পারে। কারণ ট্রাম্পের জয় অবিলম্বে আমেরিকান নীতি অভিমুখী পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যাবে এবং আলোচনার জন্য কিয়েভের ওপর আরও অনেক বেশি চাপ সৃষ্টি করবে, যার অর্থ ইউক্রেনীয়দের শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সমর্থক থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায় কি না।’

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েল-হামাস সংঘাত ও ইসরায়েল-লেবানন সংঘাত বন্ধ হবে কিনা, তা নিয়ে জল্পনা চলছে। যদিও আজকের বক্তৃতায় কোনো যুদ্ধের কথাই সরাসরি উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। 

ট্রাম্প জিতলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বদলে যেতে পারে। যদিও দুই প্রার্থীই ইসরায়েলকে সমর্থন দেওয়ার কথা বলছেন। আর হুমকি দেওয়া হচ্ছে ইরানকে। এর মধ্যে ট্রাম্প,  নিজেকে ইসরায়েলের ‘রক্ষাকর্তা’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন।



Tuesday, November 5, 2024

সালমান-আনিসুলসহ নতুন মামলায় গ্রেফতার ৫ জন


রাজধানীর মিরপুর ও উত্তরা-পূর্ব থানার পৃথক হত্যা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ ৫জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বুধবার (৬ নভেম্বর) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।

এসব মামলায় গ্রেফতার হওয়া অন্যরা হলেন, ব্যারিস্টার সায়েদুল হক সুমন, সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদার ও সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব সাবেক সচিব জাহাঙ্গীর আলম।

এর আগে বুধবার সকালে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর, খিলগাও থানার হত্যা মামলায় ব্যারিস্টার সুমন, মিরপুর থানার হত্যা মামলায় সালমান এফ রহমান, আনিসুল হক, কামাল আহমেদ মজুমদারকে গ্রেফতার দেখানো হয়। লালবাগ থানার মামলায় জাহাঙ্গীর আলম এবং উত্তরা-পূর্ব থানার হত্যা মামলায় আনিসুল হককে গ্রেফতারের আবেদন করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানিত আবেদন মঞ্জুর করেন আদালত। এসময় তাদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর আদেশও দেন বিচারক।

চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তদের হামলায় পুলিশ-সেনাবাহিনীর ১২ সদস্য আহত


চট্টগ্রামের দুর্বৃত্তদের হামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১২ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৬ জন পুলিশ ও ৬ জন সেনা সদস্য রয়েছেন বলে জানা গেছে। যৌথ বাহিনীর টাস্কফোর্স-৪ চট্টগ্রাম থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় শহরের হাজারী গলিতে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করতে গেলে যৌথ বাহিনীর ওপর হামলার এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতদেরকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সেনাবাহিনীর পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ওসমান আলী নামক একজন ব্যক্তির ফেসবুক স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরীর টেরীবাজার এলাকার হাজারী লেনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ফেসবুকের ওই পোষ্টটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ওই এলাকার ইসকন সমর্থক এবং বেশ কিছু উগ্র হিন্দুবাদ সমর্থকরা ওসমান আলী ও তার ভাইকে হত্যা এবং দোকান জ্বালিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে হাজারী লেনে জড়ো হয়।

 এ সময় যৌথবাহিনীকে খবর দেয়া হলে পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর ৬টি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিশৃঙ্খলাকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় এবং মব জাস্টিস রোধে ওসমান আলী ও তার ভাইকে উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এসময় দেশের প্রচলিত আইনে অপরাধীর সাজা নিশ্চিত করা হবে বলে উত্তেজিত জনতাকে আশ্বস্ত করা হয়।

তবে, একপর্যায়ে উগ্র বিশৃঙ্খলাকারীরা আক্রমণাত্বক হয়ে ওঠে এবং যৌথবাহিনীর ওপর আক্রমণ চালায়। তাদের দিকে ইট-পাটকেল এবং এসিড সদৃশ বস্তু ছুড়ে মারতে শুরু করে। এতে সেনাবাহিনীর একজন সদস্যের শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায়। এরপর আরও দশটি টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে এবং ৬ জনকে আটক করে। পরে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেড়িয়ে আসে।

সেনাবাহিনী জানায়, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে চট্টগ্রামে পরিকল্পিতভাবে মন্দিরে হামলা ও মূর্তি ভাঙচুরের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চলছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ৫ আগষ্টের পর পালিয়ে থাকা নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের এক নেতার নির্দেশে পাঞ্জাবী ও টুপি পরিহিত অবস্থায় ছদ্মবেশে মন্দিরে হামলা এবং মূর্তি ভাঙ্গার এই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে বেরিয়ে আসে।

পূর্ব পরিকল্পিত এই ঘটনাটির পেছনে যুবলীগ নেতা সঞ্জিব বিশ্বাস সাজু, সাবেক কাউন্সিলর বলরাম চক্রবর্তী বলয় এবং জহর লাল হাজারীর পিএস এর নাম পাওয়া গেছে বলে জানায় সেনাবাহিনী। এছাড়াও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরুদ্ধে থাকা কক্সবাজার শহর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক দাসের ইশারায় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উস্কে দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে।

সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, পরিকল্পিত ভাবে মন্দির ও মূর্তি ভাঙার তথ্য ফাঁস হওয়ার ফলে হাজারী গলিসহ নগরীর অন্যান্য এলাকার মন্দিরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।



অন্তর্বর্তী সরকারের দুর্বলতাই কি দেশে ফেরাবে শেখ হাসিনাকে?


 ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে ভারতে রয়েছে তিনি।

শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর থেকে আওয়ামী লীগ নিষ্ক্রিয়। ইতোমধ্যে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। সেই সরকার এবং সরকারের সমর্থকরা তাকে দেশে ফিরিয়ে বিচারের মুখোমুখী করতে চাইছেন। তবে ভারতের সঙ্গে আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তাতে এই মুহূর্তে তাকে দেশে ফেরত আনা যে প্রায় অসম্ভব, তা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার ও সরকারের সমর্থকরাও জানেন।

শেখ হাসিনা যখন দেশ ত্যাগের পরবর্তী কয়েক সপ্তাহ সবার মধ্যে এমন একটি ধারণা দৃঢ় ছিল যে ৭৫ বছর বয়সী আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর বাকি জীবন কাটবে নির্বাসিত অবস্থাতেই। কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং তার পরবর্তী ফলাফল দেশে-বিদেশে শেখ হাসিনার এমন নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি করেছে যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তার ফেরা আর সম্ভব হবে না।

তবে সম্প্রতি এই ধারণা বা বিশ্বাস ধীরে ধীরে ফিকে হয়ে যাওয়ার অবস্থাও তৈরি হচ্ছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, বাংলাদেশের রাজনীতির যে নেতৃত্বশূন্যতা, সেটিই এক সময় শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার পথ এবং রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দেবে।

নরওয়ের অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক এবং বাংলাদেশের নাগরিক মোবাশ্বের হাসান এ প্রসঙ্গে টাইম সাময়িকীকে বলেন, বর্তমানে ক্ষমতাসীন সরকার বৈধতা রয়েছে, জনসমর্থনও রয়েছে; কিন্তু এই সরকার নির্বাচিত কোনো সরকার নয়। এই সরকারের কোনো ম্যান্ডেট নেই। শেখ হাসিনা যদি চান, তাহলে এই দুর্বলতাকে ব্যবহার করে এক সময় দেশে ফিরে আসতে পারবেন। এটা কেবলই সময়ের অপেক্ষা।

যুক্তরাষ্ট্রের থিঙ্কট্যাংক সংস্থা উইলসন সেন্টারের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যানও এমনটা মনে করেন। টাইম সাময়িকীকে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন শুধু সম্ভবই নয়, খুবই সম্ভব। কারণ পরিবারতন্ত্র দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রাজনীতি ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যুগ যুগ ধরে দক্ষিণ এশিয়ায় এটি চলে আসছে। মাত্র একটি বাংলাদেশে এই সংস্কৃতির অবসান ঘটবে— এমনটা প্রত্যাশা করা যায় না।

তিনি আরও বলেন, তারপরও হয়তো বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যেত, যদি আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হত। কিন্তু দেশটির যে রাজনৈতিক বাস্তবতা, তাতে এটি একেবারেই সম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ এখনো বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। -টাইম সাময়িকীর বিশ্লেষণ


Sunday, November 3, 2024

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত দ্রুতই শুরু হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ১৫ বছর আগে রাজধানীর পিলখানায় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দপ্তরে বিদ্রোহে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত দ্রুতই শুরু হবে। সোমবার (৪ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দফতর পরিদর্শনের পর এ কথা বলেন তিনি।

২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় বিডিআর সদর দপ্তরে (বর্তমান নাম বিজিবি) বিদ্রোহের ঘটনায় ৫৭ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নিহত হন। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলে ওই ঘটনা।

এই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। হত্যা মামলায় খালাস বা সাজাভোগ শেষে বিস্ফোরক মামলার কারণে মুক্তি আটকে আছে ৪৬৮ বিডিআর সদস্যের।

দেড় দশক আগে সংগঠিত ওই হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত দ্রুতই হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্ত অবশ্যই হতে হবে। আর সেটা দ্রুতই হবে।

বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, সীমান্তে নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। চোরাচালান যেন না হয় সেদিকে কড়া নজর রাখতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা সত্ত্বেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছে ইরান।


 যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতা সত্ত্বেও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করছে ইরান। এক্ষেত্রে তেহেরান শক্ত একটি কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে। যেখানে ইসরালের বিরুদ্ধে হামলায় আরও অধিক শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। ইরানী এবং আরব কর্মকর্তারা বিষয়টি সামনে এনেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানানো হয়েছে। 

দেখার বিষয় ইরানের হুমকি বাস্তবায়ন হবে নাকি আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। গত ২৬ অক্টোবর ইরানে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। তবে এ হামলা অনেকটা ঠেকিয়ে দিয়েছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এখন এ অবস্থার পুনরাবৃত্তি নিয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তেহেরান। 

ইরান যদি ইসরায়েলে হামলা চালায় তাহলে তের আবিবও বসে থাকবে না। তারাও তাদের সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে তেহেরানে হামলা করবে। তবে এক্ষেত্রে হামলায় কী ধরনের কৌশল অবলম্বন করবে সেটি নির্ভর করবে মূলত ইরানের হামলার ধরনের ওপর। ইসরায়েলি কর্মকর্তার বলেছেন, তারা এখন পর্যন্ত তেহেরানের জ্বালানি এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়নি। এখন ইরান হামলা চালালে ইসরায়েল হয়তো তেহেরানের এসব স্থাপনার হামলা চালাবে। 

আবর কূটনীতিকদের ইরান জানিয়েছে, এবারের হামলায় ইরান সেনাবাহিনী অংশ নেবে। কারণ ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটি চারজন সেনা হারিয়েছে এবং বেসামরিক লোকও মারা গেছে। তবে সেনাবাহিনীর অংশ নেয়ার অর্থ এই নয় যে সৈন্য মোতায়েন করা হবে। এক্ষেত্রে আধা সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সঙ্গে তারা কাজ করবে। কারণ এই বাহিনী ইসরায়েলি নিরাপত্তা সম্পর্কিত বিষয়ে কাজ করে। 

ইরানের হামলার বিষয়ে অবগত রয়েছে মিশরও। দেশটির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ইরান আরও শক্তিশালী এবং ভয়াবহভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে চায়। 

ইরানের কর্মকর্তা বলেন, আমাদের সেনাবাহিনী তাদের সদস্য হারিয়েছে। সুতরাং তারা এর প্রতিক্রিয়া জানাবে। এক্ষেত্রে ইরাকের মাটি ব্যবহার করে ইসরায়েলি স্থাপনার হামলা চালানো হবে এবং এটি হবে আগের তুলনায় আরও ভয়াবহ। 

ইসরায়েলের হামলার চালানোর ক্ষেত্রে ইরান শুধু ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আগের দুটি হামলাতে ইরানে এগুলো ব্যবহার করে। তবে এবারের হামলায় আরও অধিক শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে ইরান ও আরব কর্মকর্তারা। গত ১ অক্টোবর ইরায়েলের হামলায় চার ধরনের মিডিয়ার রেঞ্জের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরান। 

তবে এই মুহূর্তে হামলা চালাতে চায় না ইরান। কারণ হামলার মাধ্যমে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে চায় না। জানুয়ারিতে নতুন প্রেসিডেন্টের শপথ গ্রহণের আগেই ইরান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের কথা ভাবছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা জানিয়েছে, ইরান ট্রাম্পের চেয়ে কমলা হ্যারিসকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য উপযোগী মনে করে।

মিশর, বাহরাইন ও ওমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক এবং প্রাইভেট উভয় পক্ষ থেকে সতর্কতার পরও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 

জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস গ্রিনফিল্ড গত সপ্তাহে বলেন, ইরান যদি ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে হামলা চালায় তাহলে এর পরিণতি হবে ভয়াবহ। সুতরাং আমরা চাই ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা এখানে শেষ হওয়া উচিত। 


বিএনপিকে বাদ দিয়ে কিছু করার চেষ্টা করবেন না : মির্জা ফখরুল


 অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘পরিষ্কার কথা, বিএনপিকে বাদ দিয়ে কিছু করার চেষ্টা করবেন না। এটা বাংলাদেশের মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। একবার রাজনৈতিক বিরাজনীকরণ, মাইনাস টু করার চেষ্টা করা হয়েছিল। আবারো ওই রাস্তায় যাওয়ার কথা কেউ চিন্তা করবেন না।’

রোববার (৩ নভেম্বর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার পঞ্চম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই স্মরণসভার আয়োজন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বিএনপি নয় শুধু, এখনো বাংলাদেশ কিন্তু সংকট অতিক্রম করতে পারেনি। হাসিনা গেছে, এতে যারা বাংলাদেশী বিদেশে থাকে তাদের আনন্দ হয়েছে। আমরা একটা ভয়াবহ পাথরের কাছ থেকে মুক্তি পেয়েছি, বুকের ওপর চেপে থাকা পাথরটা গেছে। পাথর গেলো এখনো কিন্তু স্বস্তি নেই, কোথাও যেন আটকে আছি।’

‘এখন জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করেন’- অন্তর্বতী সরকারের প্রতি এমন ইঙ্গিত করেন বিএনপির এই নেতা।

আজকের সংবাদপত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘খবরের পাতায় দেখলাম, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি বছর ১২ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। সবচেয়ে বড় ধ্বংস করেছে বাংলাদেশের মোলারিরিটি, মানুষের নৈতিকতা ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ। যেখানে যাবেন চোর, চোর মানে আওয়ামী লীগের চোর। সব জায়গায় ওরা বসে আছে।’

‘রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় বসার জন্য উসখুস করছে’ এক উপদেষ্টা এমন মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এমন বক্তব্য খুব দুর্ভাগ্যজনক, আমরা আশা করিনি যে এই মাপের মানুষ এ ধরনের কথা বলবেন। আমরা রাজনীতিবিদরা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উসখুস করছি না, আমরা বাংলাদেশকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনামুক্ত করার জন্য কাজ করছি, জীবন ও প্রাণ দিয়েছি। এখন গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য আমরা যুদ্ধ করছি। কেন যুদ্ধ করছি? যত দেরি করবেন, তখন হাসিনা আবার ফিরে আসবে।’

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অতিদ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করুন। জঞ্জাল সাফ করে ফেলুন। পদে পদে আমরা ক্ষমতায় যেতে উসখুস করছি, এ সমস্ত কথা বলে জনমতকে অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবেন না। আমরা তো ক্ষমতায় যেতেই চাই। আমরা রাজনীতি তো করিই ক্ষমতার জন্য।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘খোকা ভাই একজন লিজেন্ড ছিলেন। তিনি ’৭১, ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সরব ভূমিকায় ছিলেন। তিনি কিন্তু শেখ হাসিনাকে হারিয়েছিলেন নির্বাচনে। একথা অনেকে এখন বলেন না। তাদের জন্ম হয়েছিল রাজনীতি করে মানুষের কল্যাণ করার জন্য। তার মৃত্যু আমাদের কাছে পাহাড়ের মতো ভারী হয়ে উঠেছিল।’

তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, ‘খোকা ও আব্বাস সাহেব যখন তরুণ ছিলেন তখন ঢাকা কাঁপতো। এখন তোমাদেরকে দেখাতে হবে।’

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজুন সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিনের সঞ্চালনায় আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নবী উল্লাহ নবী, বিএনপির আন্তর্জাতিক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন, যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মামুন হাসান প্রমুখ।

Saturday, November 2, 2024

কানাডার শত্রু দেশের তালিকায় ভারত


 'স্বাধীন খালিস্তান’ পন্থী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে কানাডা-ভারতে মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। এমন পরিস্থিতিতে ভারতকে শত্রু দেশের তালিকায় ফেলে দিয়েছে কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন কানাডিয়ান সরকার ভারতকে সাইবার নিরাপত্তায় ‘শত্রু দেশ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

এতে বলা হয়,  ভারতকে ‘সাইবার প্রতিপক্ষ’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছে কানাডা। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত বলেছে, আন্তর্জাতিকভাবে তাদের আক্রমণ ও ক্ষতি করার জন্য কানাডা নতুন আরেকটি কৌশল হাতে নিয়েছে।

গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কানাডার সরকারের কিছু কর্মকর্তা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন কানাডা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা ভারতের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তিনি দাবি করেছেন ভারতকে ‘সাইবার প্রতিপক্ষ’ অর্থাৎ সাইবার শত্রু হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে কানাডা কোনো শক্তিশালী প্রমাণ উপস্থাপন করেনি।

নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধির জয়সওয়াল বলেন, ‘আমরা একে ভারতকে আক্রমণ ও বদনাম করার আরেকটি কানাডীয় কৌশল হিসাবে দেখছি। তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন যে, কানাডা ভারতের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক মতামতকে নেতিবাচক করতে চাইছে।’

গত ১৪ অক্টোবর কানাডায় খালিস্তানপন্থী শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জার হত্যা মামলায় ভারতীয় হাইকমিশনার সঞ্জয় কুমার ভার্মাকে ‘স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি’ বলে উল্লেখ করে কানাডার পুলিশ। এতে চরম প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে ভারত সরকার কানাডার ৬ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে। একই দিন ভারত সরকার কানাডা থেকে তার হাইকমিশনার ও অন্যান্য কূটনীতিক ও কর্মকর্তাদেরও প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়। গত মঙ্গলবার কানাডায় শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার পেছনে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ রয়েছেন বলে গুরুতর অভিযোগ তোলে কানাডা। এতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।



নওগাঁয় সন্ত্রাসী হামলায় আহত বিএনপির ৪ নেতাকর্মী


 নওগাঁ শহরের ইয়াদ আলীর মোড় এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে ৩ ভাইসহ বিএনপির ৪ নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ ও গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের সবাই বিএনপি নেতাকর্মী বলে জানা গেছে।

শনিবার (২ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। আহত ৩ সহোদর হলেন আফজাল হোসেনের ছেলে আব্দুল মজিদ (৬০) কাবিল হোসেন (৫২) আর আরেকজন শফিকুল ইসলাম (৪৫) কাবিল হোসেন (৪৭)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০ টার দিকে আব্দুল মজিদ, কাবিল হোসেন ও শফিকুল দোকান বন্ধ করছিলো। এসময় হঠাৎই মোটরসাইকেলযোগে এসে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা গুলি চালায় ও দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। পালানোর সময় সন্ত্রাসীরা মোটরসাইকেল ও হামলায় ব্যবহৃত ফেলে রেখে যায়। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসে।

বোয়ালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মাহবুব হাসান জানান, আহতরা সবাই বোয়ালিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মী। হামলাকারীরা চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও আওয়ামী লীগের ক্যাডার মোহাম্মদ আলী ২ সহযোগীকে নিয়ে এসে হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নওগাঁর পুলিশ সুপার কুতব উদ্দিন জানান, হামলার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া শটগান ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করার আশ্বাস দেন তিনি।

বিশ্বকাপ বাছাই: নেইমার-এন্ড্রিককে ছাড়াই ব্রাজিলের দল ঘোষণা

 


গত মাসে চিলি ও পেরুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দুর্দান্তভাবে কামব্যাক করেছে ব্রাজিল। চলতি মাসে ভেনেজুয়েলা ও উরুগুয়ের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। এই দুই ম্যাচকে সামনে রেখে শক্তিশালী দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল।

শুক্রবার (১ নভেম্বর) ভেনেজুয়েলা ও উরুগুয়ে ম্যাচের জন্য ২৩ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন হেড কোচ দরিভাল জুনিয়র।

এই দুই ম্যাচের স্কোয়াডে জায়গা হয়নি নেইমার জুনিয়রের। দীর্ঘ এক বছরের ইনজুরি কাটিয়ে নেইমার মাঠে ফিরলেও জাতীয় দলের একাদশে নেই এই তারকা ফুটবলারের।

এ ছাড়াও বাদ পড়েছেন তরুণ এনদ্রিক। রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে মাত্র ১০৭ মিনিট মাঠে ছিলে তরুণ তারকা। সবশেষ চার ম্যাচে তাকে মাঠেই নামাননি কোচ আনচেলত্তি। এবার বাদ পড়লেন জাতীয় দল থেকে।

অক্টোবরে বাছাই পর্বে ঘাড়ে ইনজুরির কারণে খেলতে পারেননি ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তবে এবারের দলে ফিরেছেন তিনি। ভিনির সামনে জাতীয় দলের হয়ে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগ। ব্যালন ডি’অর পেতে যাচ্ছেন- এমন অবস্থা থেকে তাকে এই পুরস্কারটি দেওয়া হয়নি। এই চরম হতাশাকে সঙ্গে নিয়েই জাতীয় দলের হয়ে খেলতে নামবেন রিয়াল তারকা।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আগামী ১৫ নভেম্বর ভেনেজুয়েলা ও ২০ নভেম্বর উরুগুয়ের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলবে ব্রাজিল।

বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ব্রাজিলের স্কোয়াড

গোলরক্ষক: বেন্তো (আল নাসর), এডারসন (ম্যানসিটি) এবং ওয়েভার্টন (পালমেইরাস)।

ডিফেন্ডার: দানিলো (জুভেন্টাস), ভ্যান্ডারসন (মোনাকো), অ্যাবনার (লিওঁ), গুইলেরমে আরানা (অ্যাটলেটিকো মিনেইরো), এডার মিলিতাও (রিয়াল মাদ্রিদ), গ্যাবরিয়েল মাগালায়েস (আর্সেনাল), মার্কুইনহোস (পিএসজি) ও মুরিলো (নটিংহ্যাম ফরেস্ট)।

মিডফিল্ডার: অ্যান্দ্রে (উলভারহ্যাম্পন), আন্দ্রেস পেরেইরা (ফুলহ্যাম), ব্রুনো গুইমারেস (নিউক্যাসল), গারসন (ফ্ল্যামেঙ্গো), লুকাস পাকেতা (ওয়েস্টহ্যাম) ও রাফিনহা (বার্সেলোনা)।

ফরোয়ার্ড: এস্তোভাও (পালমেইরাস), ইগোর হেসুস (বোটাফোগো), লুইজ হেনরিক (বোটাফোগো), রদ্রিগো (রিয়াল মাদ্রিদ), সাভিনহো (ম্যানসিটি) ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ)।

Friday, November 1, 2024

কাকরাইলের আশপাশে আগামীকাল সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ


রাজধানীর কাকরাইল ও এর আশপাশের এলাকায় আগামীকাল শনিবার সব ধরনের মিছিল, সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। 

শুক্রবার ডিএমপি কমিশনার (চলতি দায়িত্বে) মো. মাইনুল হাসান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, সম্প্রতি উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলায় জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ আগামীকাল শনিবার পাইওনিয়ার রোডস্থ ৬৬নং ভবন, পাইওনিয়ার রোড, কাকরাইলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ প্রদর্শন ইত্যাদি নিষিদ্ধ করেছে।

এর আগে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র, শ্রমিক ও জনতা’ ব্যানারে একটি মিছিল রাজধানীর বিজয়নগরে জাতীয় পার্টির (জাপা) কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় জাতীয় পার্টির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়। এসময় দুপক্ষই তাদের ওপর হামলার দাবি করে। পরে রাতে জাতীয় পার্টির কার্যালয়ে আগুন দেয় শিক্ষার্থীরা। 

 এর প্রতিবাদে, শনিবার রাজধানীর কাকরাইলে জাতীয় পার্টি সমাবেশ করবে বলে এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেয় দলটি।

পাল্টা জবাবে অপর এক সংবাদ সম্মেলনে কাকরাইলে জাতীয় পার্টিকে সমাবেশ দেওয়া হবে না বলে জানায় ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছাত্র-শ্রমিক-জনতা।

এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজধানীবাসীর সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির পক্ষ থেকে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের এ ঘোষণা এলো।

চট্টগ্রামে আদালতে সংঘর্ষ ও আইনজীবী নিহতের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২৭

চট্টগ্রামে আদালতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও আইনজীবী নিহতের ঘটনায় ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতভর নগরীর কোতোয়ালী, পাথরঘাটা, ব...